Posts

নষ্ট শৃঙ্খলায় ভ্রষ্ট সমাজ

নষ্ট শৃঙ্খলায় ভ্রষ্ট সমাজ মো: এনামুল হক  ধর্ষণ এখন আমাদের সমাজের খুব সাধারণ একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের মধ্যে নীতি নৈতিকতা দিন দিন যেন ডাইনোসরের মত বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেন আমাদের এই অবস্থা তা কি কখনও আমরা আচ করতে পাচ্ছি? সেদিন গ্রামে গিয়ে দেখি নদীর ধারে চার পাঁচ জন উঠতি বয়সের পোলাপান এন্ড্রয়েড মোবাইল হাতে পেয়ে গভীর মনোযোগের সাথে অতিশয় মগ্ন হয়ে কি যেন দেখছে আর হাসাহাসি করছে। অথচ আমি ওখানে উপস্থিত হবার পরও ওদের মধ্যে ঐ স্থান হতে উঠে যাবার কোনো প্রকার প্রবণতা তো পরিলিক্ষত হলোই না বরং সবার মধ্যে কেমন জানি একটা নির্লজ্জতার নোংরা ছাপ রীতিমতো ফুটে উঠল। কেননা মোবাইল কোম্পানির তিন বা চার দিনের বিশেষ ইন্টারনেট অফার ওদের যে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতেই হবে। এজন্য হয়ত ওরা মরিয়া হয়ে পর্ণ্য সাইট থেকে শুরু করে এমন কোনো সাইট নেই যে সেখানে অবাধে ঢোকার নিরব স্বাধীনতা তারা লাভ করেনি। আমাদের সময় এমন বিকেল গুলো ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা ধরণের শরীরচর্চামূলক খেলায় মাতিয়ে তুলেছি পাড়ার সকল বন্ধুরা মিলে। অথচ কি আশ্চর্য !চোখের সামনেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এভাবে এখানে ওখানে একাক রকমের আসক্তি নিয়ে ঝিম মের...

করোনা উপলব্ধি

করোনা উপলব্ধি  মো: এনামুল হক  বিশ্বজোড়া আতঙ্কময় করনার ভয়ে আজ আমরা সবাই মিলে খোদার কাছে কতই না কাকুতি মিনতি করছি। ক্রন্দনে আর আস্ফালনে একাকার করে দিচ্ছি এ উপাসানালয় হতে ও উপাসানালয়, এগৃহ হতে ওগৃহ, এদেশ থেকে ওদেশ, এমহাদেশ থেকে ও মহাদেশ। মুক্তির জন্য কত আহাজারি কত হাহাকার সেখানে। কিন্তু মৃত্যু তালিকায় সেখানে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। এ মহামারি হতে রক্ষা পেতে নানা প্রচেষ্টায় হয়রান হয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তাবৎ সব হুমড়োচুমড়ো চিকিৎসা বিজ্ঞানী, ডাক্তার, নার্স, ধর্মগুরু আর রাজনীতিবিদেরা। কিন্তু একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, আমাদের দু হাতের কামায়ের বিপরীতে তাঁর নির্ধারিত ফায়সালা আমাদের মেনে নিতেই হবে। পরম করুনাময় সেই প্রভু হয়তো তাঁর রহমতের অসীম ভান্ডারের অছিলায় আবারো আমাদের সব পাপ পঙ্কিলতা নিজ গুনে ক্ষমা করে দিবেন। তাঁর কুদরতি ক্ষমতায় নিমিষেই স্তব্ধ করে দিবেন এই ক্রমবর্ধমান ভয়াল মরণ মিছিল। কারণ আল্লাহর প্রিয় হাবিব মুহাম্মদ (সঃ) এর উম্মতের  উপর মুছিবাত বা গজব কখনও স্থায়ী হয়নি এবং তা হতে পারে না। কিন্তু তাঁর নানা গায়েবী অছিলায় এই মৃত্যু পুরী সজীব হবার পর আমরা স্বভাবসূলভ ভঙ্গিতে আবার যেন সেই...

ঈদ আর নয় মহা-বিচ্ছেদ

ঈদ আর নয় মহা-বিচ্ছেদ  মোঃ এনামুল হক  পরিচিত ভায়ের শীর্ণ ভ্যানের পিছনে বসে ভাঙাচুরা রাস্তার খড়বড়ে কাপুনির তরঙ্গে আর বাতাসের শো শো শব্দের মিষ্ট আওয়াজের সাথে সামনের দুই যাত্রির অস্পষ্ট কথোপকথনে পিছনে বসা লোকটার কানে ভেসে আসলো,“ মালা দিয়ে কি সুমুদ্দুর ছেকা যায়?” আঞ্চলিক ভাষায় নারিকেলের ভিতরের শক্ত খোলসের অংশকে ‘মালা’ বলে আমাদের অঞ্চলে। কৌতুহলবশত, খুব কষ্টের মাধ্যমে আলোচনার বিষয়টি অনুধাবন করার চেষ্টা করে অবশেষে লোকটা বুঝতে পারলো ভ্যানের সামনে বসা লোক দুইটা পদ্মা সেতুর নিগুড় তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করছে।উপদ্রবের মত পেছনের লোকটি তখন আবার মুখ ফোঁসকে বলে ফেললো, “আপনারা যেকোন কিছুর উন্নয়ন নিয়ে সবসময় আমাদের দেশের বিরোধী দলের মত শুধু বিরোধীতার জন্যই বিরোধিতা করেন কেন,যা হচ্ছে হোক না। আমরা তো এই পাড়েরই লোক...এই পাড়েই আমাদের বসবাস,ব্রিজটি হলে ক্ষতি কি...বরং উপকার তো আমাদেরও । ব্রিজটি দিয়ে শুধু তো সরকার দলের লোকেরাই যাবে না, ওটা দিয়ে তো আমরা  সবাই যাতায়াত করবো। ভাবটা এমন যে ওটা না হলেই যেন কারো কারো চোখে মুখে ঈদের খুশির অবারিত ঝলকানি রীতিমত ফুটে ওঠে।”স্বমতের বিরুদ্ধ মতবাদের অযাচিত সুর শুনে খ...

সন্তানের মূল্যবোধ ও আমরা!

সন্তানের মূল্যবোধ ও আমরা! মো: এনামুল হক আপনাদের সাথে একটা জিনিস আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শেয়ার করতে চাই। আর সেটা হলো, আমরা আমাদের নিজেদের সন্তান-সন্ততিকে নিয়ে যাতে খুব ভালমত চিন্তা করতে পারি। আর সেই সাথে ইসলাম যেন আমাদের সকলের জীবনে খুবই সচেতনতার একটা ব্যাপার হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আমার উপর রাগ বা অভিমান হলেও, আজকে থেকে আপনি অন্তত কিছু একটা শুরু করুন। আর একদম কিছুই যদি আপনি না করেন; তাহলে সেটা নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য খুবই একটা চিন্তার বিষয় হবে। প্রত্যেকটি বাচ্চা যারা সৃষ্টি, স্রষ্টা বিভিন্ন বিষয়ে সন্দেহ করা শুরু করে অথবা যারা আল্লাহর কালেমা থেকে ভিডিও গেমস নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। তাহলে এটা আমাদেরই বিশাল একটা ক্ষতি এবং চিন্তার বিষয়। আপনাদেরকে আমি যেটা বলতে চাই সেটা হচ্ছে, মূর্তি বা আইডল। ইব্রাহিম (আ:) মূর্তি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। আমাদের সেই সমস্যা নেই। আমাদের এখানে মূর্তি নেই। সেই কোর্স নেই। আর আমরা এটা নিয়ে চিন্তিত না যে, আমাদের সন্তানরা কোন মূর্তি পূজা করবে। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে, আসলে আইডলটা কি? প্রত্যেক প্রজন্মের একটা নিজস্ব আইডল আছে। প্রত্যেকটা সময়ের একটা নিজস্ব...

শ্রী চৈতন্য দেবের বাড়ি ও মন্দির

শ্রী চৈতন্য দেবের বাড়ি ও মন্দির মোঃ এনামুল হক  পুণ্যভূমি বলে পরিচিত জেলা সিলেট। বিভিন্ন সময় এখানে আবির্ভাব ঘটেছে মহাপুরুষদের। মুসলিম সুফি-সাধকের পাশাপাশি সনাতন ধর্মালম্বী মহাপুরুষদের আগমন ও বসবাস ছিল এখানে। বিশ্বদরবারে তাই এ জেলার রয়েছে আলাদা খ্যাতি। ধর্মপ্রচারকদের স্মৃতির শহর দেখতে এখনো ছুটে আসেন পর্যটক ও লেখক। শহর ঘিরে লেখেন ভ্রমণকাহিনি। তুলে ধরেন ইতিহাস-ঐতিহ্য। পুণ্যভূমি সিলেটের সেই ইতিহাস-ঐতিহ্যের একটি গোলাপগঞ্জ উপজেলার শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর পৈতৃক বাড়ি। উপমহাদেশের বৈষ্ণব ধর্মের সাধক ও সংস্কারকের এ বাড়ি এতদিন চরম অবহেলা আর অযত্নে জীর্ণদশায় পড়ে থাকলেও এখন সেখানে সিলেট জেলা পরিষদের প্রচেষ্টায় নেওয়া হয়েছে সংস্কারের নানা উদ্যোগ। এ বাড়িটি ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের মিশ্রপাড়া গ্রামে অবস্থিত। ইতিহাস বলছে, অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগে তৎকালীন সিলেটের দেওয়ান গোলাব রামের উদ্যোগে গোলাপগঞ্জে মন্দির নির্মিত হয়। জানা যায়, শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর বাবা জগন্নাথ মিশ্র যখন শ্রীহট্ট ছেড়ে নবদ্বীপে চলে যান, তখন মহাপ্রভুর জন্ম হয়নি। সে সময়ই তার ঠাকুরমা আবদার করেছিলেন যেন নাতি তাকে দেখতে আসে। ১৪৮৬ সালে জন্ম নেন শ্রী...

পুণ্যভূমি সিলেটের মাজার

পুণ্যভূমি সিলেটের মাজার  মোঃ এনামুল হক  হুমায়ূন চত্বর থেকে সিএনজিতে ত্রিশ টাকা ভাড়ায় সোজা পৌঁছে গেলাম হযরত শাহজালাল (রঃ) এর মাজার আম্বরখানায়। সেখানে মেইন রোড ছেড়ে পশ্চিম বরাবর রাস্তায় মিনিট খানেক হাঁটতেই সামনে দেখি বড় একটা গেট। ভাবসাব দেখে ঐটাই আমার কাছে সেই কাঙ্খিত মাজার বলে মনে হলো। তারপরও কনফার্ম হওয়ার জন্য স্থানীয় এক দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলাম, "ভাইজান, এটাই কি সেই হযরত শাহজালাল (রঃ) এর মাজার?" উনি বললেন, "হ্যাঁ, প্রবেশ দরজা দিয়ে প্রবেশ করুন।" এরপর আমি ভিতরে ঢোকার পর একটু ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ভাবেই ঘুরে বেড়াচ্ছি আর মনে মনে মূল মাজারটাকেই খোঁজ করছি। কিন্তু কাউকে বলছিনা। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে একসময় মাজার প্রাঙ্গণের পূর্বপাশে গিয়ে দেখি অসংখ্য কবুতরের মুহুর্মুহু আনাগোনা। ওগুলো ঝপ ঝপ করে নিচে নেমে আসছে স্টিলের বেড়ায় নির্মিত এক উন্মুক্ত খাঁচার ভিতরে। পাশেই একটা দোতলা বিল্ডিং। সেই বিল্ডিংয়ের ছাদে এবং ভেন্টিলেটার বরাবর অগনিত কবুতরের আনাগোনা। যাইহোক, এখানকার মুগ্ধতা শেষ না হতেই আরেকটু সামনে চোখ গেল আমার। সেখানে দেখি আরেকটা জটলা। ঐ জটলার জট খুলতে সামনে এগোলে আমিও আটকে যাই ...

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে মোঃ এনামুল হক  বড়লেখা হচ্ছে মৌলভীবাজারের একটা উপজেলা। সেখান থেকে সিএনজি যোগে আমি কাঠালতলী গেলাম। উদ্দেশ্য মাধবকুণ্ডে জলপ্রপাতের দৃশ্যে চোখ জুড়াবো। তাই কাঠালতলী থেকে একটা সিএনজি রিজার্ভ করে মাধবকুণ্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তবে জলপ্রপাতের দৃশ্যে বিমোহিত হবার পূর্বেই পথিমধ্যে টিলার দুইপাশের সৌন্দর্যের অপার ফল্গুধারা যেন আপন মমতায় খেলা করে বেড়াচ্ছে। সেইসাথে টিলার পাদদেশে সমতল ভূমির ঐ বৈচিত্র্যময় রূপের দীপ্তিময় সৌন্দর্যই বা কম কিসে যায়? সেখানে ভরাট সবুজের দারাজ সমারোহ যেন আমার চোখের জ্যোতিকে দ্বিগুন উজ্জ্বল করে চলেছে। খানিক দূরের ঐ লাল গাভীটা নিবিড় সবুজ ঘাসের আস্তরণে তার তেল চুয়ানো দেহের প্রায় অর্ধেকটাই ডুবিয়ে দিয়ে সন্তুষ্ট চিত্তে এমনভাবে ঘাস চর্বণ করছে যা দেখে মনে হচ্ছে বাইরের জগতের কে বা কারা তার সৌন্দর্যের মোহে পড়ে আনন্দে লুটোপুটি খাচ্ছে সেদিকে তার যে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। অবশেষে পৌছে গেলাম সেই কাঙ্খিত মাধবকুণ্ড ইকো পার্কের গেটে। বিশ টাকার টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকতেই নানা সৌন্দর্যের হাতছানি। এরপর এপাশ ওপাশ তাকাতে তাকাতে চলে গেলাম ঠিক জলপ্রপাতের কাছে। সেখানে সুউচ্...